দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা হামলার মধ্যেও ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাঙ্কার দ্রুত মেরামত করে পুনরায় সচল করছে তেহরান—এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঙ্কারগুলো মেরামত করে ফের ব্যবহারের উপযোগী করছে ইরান। এতে চলমান সংঘাতের বাস্তব চিত্র নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, হামলার পরও ইরান দ্রুত তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে। অন্যদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও মোবাইল লঞ্চার রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সংখ্যা কমে আসাকে হোয়াইট হাউস তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরলেও বিশ্লেষকদের মতে, এটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। তারা বলছেন, ইরান এখন কম সংখ্যক হামলা চালিয়ে লঞ্চার দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যতটা সম্ভব অক্ষত রাখতে চায়, যাতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে চাপ বজায় রাখা যায় এবং যুদ্ধ শেষে আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখা সম্ভব হয়।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, যুদ্ধের প্রথম পাঁচ সপ্তাহে ইরানে প্রায় ১১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, ৭ মার্চ পর্যন্ত ইরানের তিন-চতুর্থাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। তবে নতুন গোয়েন্দা তথ্য সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বর্তমানে ইরানের দৈনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৪০টির নিচে নেমে এলেও প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ভূগর্ভস্থ টানেল ও ‘মিসাইল সিটি’ ব্যবস্থার কারণে লঞ্চার শনাক্ত ও ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব গোপন ঘাঁটি থেকে সুযোগ বুঝে হামলা চালানো হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘তারা এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে, কিন্তু আমরা সেগুলো ভূপাতিত করব। তারা ভূগর্ভে যাবে, কিন্তু আমরা তাদের খুঁজে বের করব।’
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন এখনও কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রও অক্ষত থাকায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমএস/